দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের তৎপরতায়, মৃত্যুঝুঁকি কাটালো করোনাক্রান্ত রোগী

0 103

 

||নিজস্ব প্রতিনিধি||

“মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য” দুই বাংলার বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার গাওয়া এই গানটির বাস্তবের যথার্থ প্রস্ফুটিত করেছেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব.)।

(০২ জুলাই ২০২১) শনিবার দিবাগত রাত্রে দাউদকান্দি উপজেলার পৌর সদরের তুজারভাঙ্গা গ্রামের একই পরিবারের করোনা আক্রান্ত মুমুর্ষ ৩ রোগীরকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং উন্নত চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করে দেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী (অব.)।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার পৌর সদরের, তুজারভাঙ্গা গ্রামের নিবাসী মৃত মুজাফ্ফর হোসেনের বড় কন্যা সেলিনা আক্তার (৩৭) গত ১০ দিন যাবত ঠান্ডা জ্বর এবং করোনার উপসর্গ বহন করছে। ০২ জুলাই অবস্থার অবনতি ঘটলে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন, তাৎক্ষণিকভাবে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং নিজের গাড়িযোগে রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল নেয়ার ব্যবস্থা করেন। রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ডাক্তাররা শত চেষ্টা করেও রোগীকে বাঁচাতে পারেনি।

একই পরিবারের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের স্ত্রী ও ছোট কন্যা শারমিন আক্তার (২৯) কর্ণাটক হয় রাতের মধ্যেই তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগ নেতা ইয়াকুব এবং ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান রনির সহযোগিতায় তাদেরকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, স্থানান্তর করা হয়। এবং সারাদিন চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা সংকট কেটে গেছে বলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান।

এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তার দের কাছ থেকে জানা যায়, আগত দুই করোনা উপসর্গ বহনকারী রোগীর অক্সিজেন এর উঠানামা ৬০ এর নিচে ছিলো। সঠিক সময়ের মধ্যে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিতসা না দেয়া হলে তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হতো বলে জানান।

এই সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর মোহাম্মদ আলী ( অব.) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকাটা একটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে আমি আমার সামান্য দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। আমার রাজনৈতিক কর্মী রনির কাছ থেকে খবর পাওয়ার সাথে সাথে, আমার ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে রোগীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ছিলাম, বর্তমান এমন কঠিন মুহূর্তেও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে হাসপাতালে ফোন করে আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন করে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাতের মধ্যেই মৃত নারীর পরিবারের অন্য দুই সদস্য‌ও করোনা আক্রান্ত হওয়ায়, তাদেরকেও দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।

এসময় তিনি দাউদকান্দি উপজেলা বাসীর প্রতি হুঁশিয়ারি আহ্বান করে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশদ্বার খ্যাত দাউদকান্দি উপজেলায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিস্তারের ঝুঁকি ব্যাপক। আপনারা সকলে সতর্ক থাকুন, করোনা ভাইরাসকে সহজ করে দেখার কোন উপায় নেই। আপনার সামান্য ভুলে আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরা ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিজে সুস্থ থাকুন, সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে,পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.