উন্নত চিকিৎসা সেবায় বদলে গেছে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

0 164

||নিজস্ব প্রতিনিধি||
মানব সেবার শপথ নিয়েই চিকিৎসকদের চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করতে হয়। চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন। রোগীর পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হয় চিকিৎসকদের। গ্রামীণ জনপদে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে বদলে গেছে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট।
দাউদকান্দির বেশির ভাগ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সার্বিক অবকাঠামোর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, নিয়ম শৃঙ্খলার উন্নতি ও সেবার মান ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে হাসাপাতালের সেবা নিয়েও সন্তোষ্ট আগত রোগীরা।
জানা যায়, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদ আল হাসান এর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়েও রোগীরা এখন আন্তরিকতাপূর্ণ সেবা পাচ্ছেন। পঞ্চাশ (৫০) শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলেও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় দাউদকান্দি ও আশপাশের উপজেলা থেকে আগত প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৭০ থেকে ৮০ বেডের রোগী ইনডোরে ভর্তি হয়ে সেবা নিচ্ছেন। ইনডোরে ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য ২৪ ঘন্টা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ছাড়াও ইনডোর মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করছেন। এ ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রতিদিন ৭শত থেকে ৮শত রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর জরুরী ও বহির্বিভাগে সেবা নিয়ে থাকে।
প্রতিমাসে ১৩০ জনের অধিক গর্ভবতী মায়ের নরমাল ডেলিভারী ও ৩০ থেকে ৩৫টি সিজারিয়ান অপারেশনের করা হয় । হাসপাতলে আগে গেলে ঔষধ পাওয়া যেত না এখন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ঔষধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং ভর্তিকৃত রোগীদের ঔষধ সরবরাহ করা হয়। এক্স-রে,আল্ট্রাসনোগ্রাম,রক্ত পরীক্ষাসহ সকল প্রকার পরীক্ষা সেবা প্রধান করে থাকে। ইনডোরে শিশুদের জন্য শিশু সেবা,মহিলা রোগীদের জন্য ভায়া পরীক্ষা,যক্ষা রোগীদের জন্য কফ পরীক্ষা,জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা,সার্বক্ষণিক নরমাল ডেলিভারিসহ সিজার অপারেশন করা হচ্ছে এবং ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম নিয়মিত চালু রয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদ আল হাসান যোগদানের পর পর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বিভিন্ন কার্যক্রম ও আগত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা শতভাগ নিশ্চিত করতে কয়েকটি কমিটি গঠন করে ও সকল কমিটির সঠিক তদারকিতে অল্প সময়ে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছেন। হাসপাতালের রোগীর খাবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, সুবিধা-অসুবিধাসহ সার্বিক বিষয়ে নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাছাড়াও রাত অবধি এই কর্মকর্তাকে হাসপাতালের কর্মব্যস্থ সময় পার করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের আউটডোরে এএনসি-পিএনসি কর্নার,কমিউনিটি ক্লিনিক কর্নার,আই এম সি আই কর্নার,ইএনটি কর্নারের স্থাপন করে সেবা প্রধান করে আসছে। এনসিডি কর্নার চালু করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেওয়া হয়। অর্থাৎ ডায়েবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগে যারা ভোগেন তাদের একই সাথে নিয়মিত চেকআপ ও ফ্রি ঔষধ দেওয়া হচ্ছে।
কিডস কর্নার স্থাপন করে হাসপাতালে ভর্তি বাচ্চারা খেলা-ধুলা করতে পারে সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, কিভাবে আরো সহজে প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যায় এ ব্যাপারে প্রতিনিয়ত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে এখানে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা,করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা প্রধান, নিয়মিত করোনা টিকা দান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় গণটিকা প্রদান ও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভা সকল নাগরিককে প্রথম ডোজ,দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ টিকা প্রধান করা হয়েছে।
তবে সরকারি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চুরি, ছিনতাই, দালালদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে এসেছে।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদুল হাসান বলেন, ‘মুজিব বর্ষে স্বাস্থ্য খাত, এগিয়ে যাবে অনেক ধাপ’। এই স্লোগানের মাধ্যমে একটি পরিকল্পনা করি কীভাবে এই হাসপাতালের পরিবর্তন আনা যায়। পরিকল্পনার অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূঁইয়া ও দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মোহাম্মদ আলী মহোদয়দের সার্বিক মনিটরিং ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নে ওনাদের শতভাগ সহযোগিতায় আজকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জেলায় সেরা। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানে সকল চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি বরাবরই প্রতিবছর কুমিল্লা জেলা প্রথম স্থান অর্জন করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেংকিং অনুযায়ী চট্রগ্রাম বিভাগে দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের ২১তম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গৌরব অর্জন করে। এছাড়াও পরিস্কার পরিছন্নতা কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছ থেকে ২টি ধন্যবাদ পত্র গ্রহনের পাশাপাশি চলতি বছর শুদ্ধাচরণের চর্চার জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হওয়ায় ৫০ শয্যায় সেবা প্রধান করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৫০ শয্যায় থেকে বাড়িয়ে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলে ভর্তিকৃত রোগীদের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পেতো। ছবির ক্যাপশনঃ উন্নত চিকিৎসা সেবায় বদলে যাওয়া দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.