ফুটবল তারকা বাদল রায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে, এমপি জেনারেল ভূঁইয়া’র শোক প্রকাশ

0 81

||নিজস্ব প্রতিনিধি||

জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার বাদল রায় আর নেই। লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত এই ফুটবলার রবিবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

দীর্ঘ দিন ধরেই শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন বাদল রায়। ২০১৭ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের। 

বাদল রায়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন কুমিল্লা-১(দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি  মেজর জেনারেল(অবঃ) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি,দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজরমোহাম্মদ আলী(অব.) সুমন, দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব চৌধুরি সহ দাউদকান্দি – মেঘনা সর্বস্তরের জনগণ। 

উল্লেখ্য, বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও আগের মতো আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। তবে ক্রীড়াঙ্গনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া বাদল রায় অসুস্থ অবস্থাতেই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছিলেন নিজেকে। 

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়েছিলেন বাদল রায়। কাজী সালাউদ্দিনের কাছে অবশ্য হেরে যান তিনি। 

তবে বাফুফের বর্তমান কমিটির আগে টানা তিনবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন বাদল রায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) সহ-সভাপতি ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। 

করোনাকালে কোভিড-১৯ পজিটিভ হন বাদল রায়। পরে সুস্থও হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ৫ নভেম্বর আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া এই ফুটবলারকে। 

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। সেটিও চতুর্থ স্টেজে। তখনই চিকিৎসকেরা আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। 

স্কয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছিল। বলা হয় বাড়ি নিয়ে যেতে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও পরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বাংলাদেশ মেডিকেলেই তার মৃত্যু হয়েছে। 

১৯৬০ সালের ৪ জুলাই জন্ম বাদল রায়ের। ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে মোহামেডানের অধিনায়ক ছিলেন বাদল রায়। ’৮৬-তে তিন বছর পর মোহামেডানের লিগ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৮২ সালে আবদুস সালাম মুর্শেদীর ২৭ গোলের পেছনে বড় অবদান ছিল বাদলের। নিজে গোল করার মতো অবস্থানে থেকেও আবাহনীর কাজী সালাউদ্দিনের ২৪ গোলের রেকর্ড ভাঙার জন্য সালাম মুর্শেদীকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। শুধু মোহামেডান নয়, জাতীয় দলেও বাদল রায় ছিলেন অপরিহার্য ফুটবলার। ১৯৮২ দিল্লি এশিয়াডে তার জয়সূচক গোল রয়েছে ভারতের বিপক্ষে। ইনজুরির জন্য বাদল রায়ের ক্যারিয়ার খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। 

বাদল রায় খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বাদল রায়। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ক্রীড়া কমিটির সহ-সম্পাদকসহ কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন বেশ ক’বার। 

খেলা ছাড়ার পর সংগঠক হিসেবে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান বাদল রায়। নিজের ক্লাব মোহামেডানের ম্যানেজার ও পরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন দুই মেয়াদে। পরবর্তীতে ২০০৮-২০ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন বাদল রায়। 

ক্রীড়াঙ্গনের কোনো অন্যায়-অনিয়ম হলে প্রতিবাদ করতেন বাদল রায়। অসুস্থ্য ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠকদের সাহায্যে এগিয়ে যেতেন সবার আগে। 

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.